যেভাবে শুরু হয় ডাক-যোগাযোগ কিছু কথা জানুন



যেভাবে শুরু হয় ডাক-যোগাযোগ,

ক সময় পৃথিবীতে ছিল না কোনো যান্ত্রিক গাড়ি, ট্রেন, জাহাজ কিংবা বিমান। তখনো এক আত্মীয়ের খবর বয়ে নিয়ে গেছেন রানার। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনেই মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল অনেক আগ থেকে। এ জন্য প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করত মানুষ। ডাক ব্যবস্থার ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন সুরাইয়া নাজনীন


যখন গোত্রে গোত্রে ছিল ছন্দ, সংঘাত। প্রায়ই লেগে থাকত সংঘর্ষ। এ অবস্থায় গোত্র থেকে বেরিয়ে কেউ চলে যেতেন অন্যর। আবার দেখা গেছে, ওই এলাকা। ছেড়ে চলে গেছেন গোত্রের বেশিরভাগ পরিবার। এ অবস্থায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন হয়ে উঠত। তবে সে সময় চিঠি বা অন্য কোনো মাধ্যম না থাকায় সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে সংবাদ আদান-প্রদান করতেন তারা। সে সময় ধোঁয়ার মাধ্যমেই সংবাদ শেষ গোত্রের লোকজন। পাহাড়ের উঁচু জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে ধোঁয়ার রং পরিবর্তন করে কিংবা ধোঁয়ার আকার পরিবর্তন করে। তথ্য আদান-প্রদান করত তারা। যদি ধোঁয়া গোল গোল করে ওপরে উঠত তাহলে লোকজন বুঝে যেত তাদের গোয়ের ওপর পক্ষ আক্রমণ করেছে। সে হিসেবে তারা প্রস্তুতি নিত। আবার যদি খোঁজা সোজা ওপরে উঠত তাহলে বুঝে যেত তারা জয়ী হয়েছে। কিংবা শত্রুপক্ষ পালিয়ে গেছে।


গ্রিক ইতিহাসে দেখা যায়, দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সে সময় জয়ী পক্ষ একজন বার্তাবাহকের মাধ্যমে বিজয়ের খবর পাঠান রাজার কাছে। ২৬ মাইল দৌড়ে গিয়ে রাজদরবারে খবর দিতে হবে বিজয়ের পিডিপ্রাইডিস নামের একজন রাজি হয় এমন প্রস্তাবে। যিনি কি না ছিলেন রানার। তিনি ২৬ মাইল দৌড়ে গিয়ে রাজাকে বিজয়ের সংবাদ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যান। তার সম্মানেই শুরু হয় ম্যারাথন দৌড়। দিনে দিনে মানুষের আকুলতা ও বিজ্ঞান মনষ্কতা থেকে হরফের আবিষ্কার যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। কিন্তু তখনো কাগজ আবিষ্কার হয়নি। এ অবস্থায় পশুর চামড়া, গাছের বাকল কখনো কাদামাটিতে লিখে কিংবা চিত্র এঁকে মনের ভার ও প্রশাসনিক আদেশ নির্দেশ আদান-প্রদান করা হতো। একসময় মানুষ তালপাতার চিঠি লিখত। ব্যবহার করত বিভিন্ন গাছের পাতাও। ১০৫ খ্রিস্টাব্দে চীনের ডাইদুনে কাগজ আবিষ্কার হলে সূচনা নয় সভ্যতার আরেক বৈপ্লবিক যাত্রা। অবশ্য মানব সভ্যতার শুরু হয়েছিল পূর্বে, ডাক ব্যবস্থার সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে ওঠে ছিল পশ্চিমের পারস্য রাজা


তাদের স্বজনদের কাছে হাজার ডাকের সঙ্গে নিজেদের উঠিও দিয়ে নিতেন। এভাবে চলে বেশ কিছু দিন। ডাক আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কবুতরের ব্যবহার ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। মুসলমান শাসিত অঞ্চলে এ ব্যবস্থ অধিক জনপ্রিয় ছিল S হাজির হতেন প্রজাদের কাছে। কখনো কখনো রাজাপ্রধানদের খবর দিতে কিংবা ডাকচৌকি ১৪ থেকে ৪০ মাইল দূরে স্থাপন করা হতো। ভারতবর্ষে শেরশাহের ব্যাপক পরিবর্তন আসে। নিয়োগ হ্যা রানার। তৈরি হয় স্টেশন। এক রানার শেরশাহ ভারতবর্ষের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্যাংক রোড তৈরি করে এ ব্যনারের কাছে ডাক দিয়ে তিনি ফিরে আসতেন। এভাবে একসময় ডাক তার আরেকটি ডাক সার্ভিস চালু ছিল। যা দুই চাকার গাড়িতে ঘাড় বহন করে নিয়ে


৫৩৬ খ্রিস্টাব্দে পারস্য রাজ্যে ডাক ব্যবস্থা চালু হয়। পারস্য রাজা সাইরাস তার প্রাদেশিক গভর্নরদের সঙ্গে যোগাযোগের লক্ষ্যে ডাক ব্যবস্থা চালু করেন। এ জন্য রাজা ভূ-মধ্যসাগর থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত ১৫০ মাইল দীর্ঘ উন্নত রাস্তা তৈরি করেন এবং এ রাস্তায় ১১১টি ডাক দিলে স্টেশন স্থাপন করেন। ডাক ১১৬৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদের সুলতান কবুতরের সাহায্যে সিরিয়া ও মিসরে সংবাদ পরিবহনের জন্য কুরিয়ার নামক ডাক কর্মচারী নিয়োগ দেন। গ্রিক দার্শনিক প্রেরণের ব্যবস্থা করেছিলেন। একজন সুলতান এ জন্য ২০০০ কবুতরের হেরোডেটাস পারস্য রাজ্যে ডাক আদান-প্রদানের ব্যবস্থা সম্পর্কে লিখেছেন, এসব এক বিশাল বাহিনী গঠন করেছিলেন। ফোর্সেস নিয়ে ধর্মযুদ্ধ চলার সময় সংবাদ|


 বাহকের তুলনায় কোনো কিছুই দ্রুতগামী ছিল না। বরফ কিংবা বৃষ্টি, গরম শিকারি পাখির আঘাতে ক্ষত হয়ে একটি কবুতর অবরোধকারীদের মাঝে এসে কিংবা রাতের আঁধার কিছুই এ ডাকবাহকদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা পড়ে। কবুতরের পাখার নিচে একজন কা থেকে নিবৃত্ত করতে পারত না। এ বক্তব্যটি এখনো নিউইয়র্ক সিটি জিপিও পরিকল্পনার কথা লেখা ছিল। প্রাচীন গ্রিক কবি এনায়েনের লেখায় করে ভবনের সামনে খোদাই করে লেখা আছে। ওদিকে আশিয়ান সভ্যতায় ডাক মাধ্যমে প্রেমপত্র প্রবাদের কথা জানা যায়। এশিয়ার চীন ও মঙ্গোলিয়াতে উ চলাচলের নতুন ধারণা পাওয়া যায়। এ সভ্যতার শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন বাদশাহ ডাক ব্যবস্থার লিখিত প্রমান পাওয়া যায়। লিয়ার শাসক কুবলাই খান সোলায়মান। তিনি ডাকবাহক ছাড়াও ডাক চলাচলের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পাখিকে ডাকষ্টেশন শুধু সরকারি ডাক চলাচলের জন্য ব্যবহার করেননি। এ পোস্টাল ফুট ব্যবহার করতেন। ৯৬০ খ্রিস্টাব্দে তিনি পারস্যের সব রাজ্যের রানীর কাছে পাখির দিয়ে যেসব সরকারি, সামরিক কর্মকর্তা, বিদেশি প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ীরা সাহায্যে চিঠি পাঠিয়ে ছিলেন।


 চিঠি পাঠানোর এ নতুনত্বে 'সাবা' রাজ্যের বানী যাতায়াত করতেন তাদের নিরাপত্তার জন্য ডাকাডাকি ব্যবহার করতেন। কুবলাই এতই বিমোহিত হন যে বাদশা সোলায়মানের সঙ্গে তিনি দেখা করতে আসেন। খানের শাসন আমলের শেষ দিকে এ রকম ১৪০০ ভাটৌকি স্বাপিত হয়। এ বাদশার রূপে মুগ্ধ হয়ে তার সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। মধ্যযুগে রাজা, ডাকচৌকিতে ৫০ হাজার ঘোড়া, ১৪০০ গাঁড়, জশ ঘোড়ার গাড়ি, ৬৭০ গাধা, বাদশাদের জন্য বাহক ছিল। রানার ছিল। তারা রাজা, বাদশার শাহী ফরমান নিয়ে হাজার নৌকা, ২০০ কুকুর এবং দের হাজার ভেড়া কাজ করত। প্রতিটি নিতে নিজেরাই একটা নিয়ম তৈরি করে নেন। মূলত সে সময়ই ডাক ব্যবস্থায় আমলে সর্বপ্রথম ঘোড়ের ডাকের প্রচলন না। কথিত আছে, সে স দৌড়ে তার নির্দিষ্ট স্টেশন পর্যন্ত যেতেন। তারপর সেখানে অপেক্ষমাণ আরেক ঘোড়ার মাধ্যমে ডাক আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করেন। সে সময়ে ধীরগতির নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যেত। এভাবে শুধু রাজা, বাদশার ডাকই যেত। ব্যবস্থার যেত। দ্রুতগামী ডাকে সরকারি আর ধীরগতির ডাকে জনসাধারণের মেইল সুযোগ নেয়া শুরু করেন আমির উমরাহ, উজির তারা দূর-দূরান্তে স্থাপন পরিবহণ করা হতো|

update, bdstory